Barley flour (যবের আটা) 1 kg

আমাদের বাপ-দাদারা অসুস্থদের পথ্য হিসেবে যে “বার্লি” খাইয়ে এসেছেন, সেটি আসলে আর কিছুই নয়—আমাদের অতি পরিচিত যবের আটা (Barley Flour)। অথচ আধুনিক যুগে ব্যবসায়িক বিপণন বা সেলস মার্কেটিং-এর ফাঁদে পড়ে আমরা অনেকেই সত্যটা ভুলে বসেছি। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান যবের ছাতুকে (ভাজা যবের গুঁড়ো) “তালবিনা” হিসেবে প্রথম প্রচার করে, যা দেশের মুসলিম কমিউনিটিতে এক প্রকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। 

কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো: তালবিনা হচ্ছে যবের আটার রেসিপি, যবের ছাতুর নয়। হাদিসে অসুস্থ ও শোকগ্রস্তদের জন্য যবের আটা দিয়ে তৈরি এই তালবিনাকে এক অনন্য পথ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। 
হাদিসের আলোকে তালবিনা ও যবের আটা (Barley Flour)
ইসলামি ঐতিহ্যে যবের আটার স্যুপ বা জাউ-কে ‘তালবিনা’ বলা হয়। হাদিসে অত্যন্ত চমৎকার ও শাব্দিক উপায়ে এর গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে: 
১. হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত:
যখন তাঁর কোনো আত্মীয় মারা যেতেন এবং নারীরা সমবেত হয়ে আবার চলে যেতেন, তখন তিনি একটি ডেকচিতে তালবিনা (যবের আটা দিয়ে তৈরি খাবার) রান্না করার নির্দেশ দিতেন। এরপর বলতেন, “তোমরা এটি খাও, কারণ আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 
‘তালবিনা অসুস্থ ব্যক্তির অন্তরকে আরাম দেয় এবং তার শোক-দুঃখ কিছুটা দূর করে।’” (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৫৪১৭)। 
২. অন্য এক বর্ণনায় হজরত আয়েশা (রা.) বলেন:
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই শুনতেন যে কেউ অসুস্থ, তখন তিনি বলতেন:
“তোমরা তার জন্য তালবিনা তৈরি করো এবং তাকে তা খাওয়াও।” এরপর তিনি বলতেন, “সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, এটি তোমাদের কারো পেট থেকে ময়লা-আবর্জনা ঠিক সেভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়, যেভাবে তোমাদের কেউ পানি দিয়ে তার মুখমণ্ডল ধুয়ে পরিষ্কার করে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৪৪৫)।
এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, হাদিসে উল্লেখিত ‘তালবিনা’ তৈরি হতো কাঁচা যবের আটা (Barley Flour) তরল দুধ ও মধু দিয়ে জ্বাল দিয়ে, কোনো ভাজা ছাতু দিয়ে নয়। 
যবের আটার (Barley Flour) বৈজ্ঞানিক উপকারিতা:
  • ডায়াবেটিসের যম ও শিশুদের উত্তম পথ্য: আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও শতভাগ স্বীকার করেছে যে, যবের আটা মানবদেহের জন্য এক মহৌষধ। 
  • ডায়াবেটিসের যম (অত্যন্ত কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স): সাধারণ গম বা চালের আটার তুলনায় যবের আটার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) মাত্র ৩০, যা অত্যন্ত কম। এতে থাকা ‘বিটা-গ্লুকান’ নামক দ্রবণীয় ফাইবার রক্তে হঠাৎ করে গ্লুকোজ বা চিনি বাড়তে দেয় না। ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন কার্যকারিতা বাড়াতে এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। 
  • অসুস্থদের দ্রুত শক্তি ও মানসিক প্রশান্তি: যবের আটা হজম করা খুব সহজ। দীর্ঘস্থায়ী রোগে যারা ভুগছেন, তাদের অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে এবং হজমশক্তি ফেরাতে এটি অতুলনীয়। এছাড়া এটি শরীরে হ্যাপি হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে, যা অবসাদ ও মানসিক চাপ কমায়। 
  • শিশুদের জন্য আদর্শ পুষ্টিকর খাবার: যবের আটায় রয়েছে প্রচুর আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। ক্রমবর্ধমান শিশুদের হাড়ের গঠন শক্ত করতে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং মেধা বিকাশে এটি দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর পথ্য। 
যবের আটা খাওয়ার সঠিক নিয়ম (সুন্নতি তালবিনা রেসিপি)
যবের আটার পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে এবং সুন্নাহ অনুসরণে এটি ‘তালবিনা’ বানিয়ে খাওয়া সবচেয়ে উত্তম: 
উপকরণ:
    • যবের আটা (Barley Flour): ২ টেবিল চামচ
    • তরল দুধ: ১ থেকে দেড় কাপ
    • খাঁটি মধু বা খেজুরের পেস্ট: স্বাদমতো (ডায়াবেটিস রোগীরা মধু এড়িয়ে চলতে পারেন) 

প্রস্তুত প্রণালী:
১. প্রথমে একটি পাত্রে যবের আটা এবং দুধ ভালো করে মিশিয়ে নিন যাতে কোনো দলা পেকে না থাকে।
২. এরপর পাত্রটি হালকা আঁচে চুলায় বসিয়ে দিন এবং অনবরত নাড়তে থাকুন।
৩. ১০-১৫ মিনিট হালকা আঁচে রান্না করার পর যখন মিশ্রণটি ঘন হয়ে ক্ষীর বা জাউয়ের মতো সাদাটে রূপ নেবে, তখন চুলা থেকে নামিয়ে নিন।
৪. সামান্য ঠান্ডা হলে ওপর থেকে মধু বা খেজুরের কুচি মিশিয়ে হালকা গরম অবস্থায় অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু বা ডায়াবেটিস রোগীকে খেতে দিন।
Be the first to review “Barley flour (যবের আটা) 1 kg”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Reviews

There are no reviews yet.

Main Menu